Category Archives for গদ‍্য

মধুর আমার মায়ের হাসি

মা আর সন্তানের মাঝে মনের মেলবন্ধন আর হল না। কারণ সন্তান নিজের ভাষায় মায়ের সাথে কথা বলতে শিখল না। সে হলমার্কের কার্ডের ভাষায় কথা বলল। নিজের প্রাণের প্রদীপ মায়ের পায়ে দিতে শিখল না, তার আগেই পাড়ার ফ্লোরিস্টরা সুসজ্জিত ফুলের তোড়া ধরিয়ে দিল সন্তানের হাতে। মাকে মধুর বাক‍্য কি বলবে বুঝতে না পেরে হাজির করল ইয়াব্বড় কেকের বাক্স। মাদারস্ ডে লেখা। ফুল আঁকা। ঝকাঝক ডেকোরেট করা। আমরা যীশুকে মেরেছি ক্রুসিফিকেশানে আর অ‍্যানাকে মারলাম হলমার্কিফিকেশানে।

পড়তে থাকুন

চিঠি লেখা

ছেলেবেলায় কোলকাতার বাইরে আত্মীয়স্বজনকে চিঠি লেখার মরশুম আসত এক বারই। দূর্গাপূজোর পর পর পোস্টাপিস খুললে বাবা একগোছা হলুদ পোস্টকার্ড আর নীল কাগজের ইন্ল‍্যাণ্ড কিনে আনত। রবিবারের দুপুরে খাওয়া দাওয়া সেরে হালকা রোদের তাপে ছাদে মাদুর বিছিয়ে চুল শুকাত মা। আর চিঠি লিখত। দিল্লী, নাগপুর, যাঁরা যাঁরা কোলকাতার বাইরে আছেন, তাদের জন‍্য ইনল‍্যাণ্ডের নীল খাম। আর যাঁরা কোলকাতার আশেপাশে মফঃস্বলে থাকেন তাদের জন‍্য বরাদ্দ হলুদ পোস্টকার্ড।

পড়তে থাকুন

ভোটের ভটভটি – লাইভ শো

শুভ সন্ধ‍্যা! আপনারা দেখছেন ‘নিকট দর্শন’ চ‍্যানেলের পপুলার ইলেকশানের লাইভ শো ‘ভোটের ভটভটি’। প্রচণ্ড গরমের তাপে চাঁদি ফুটিফাটা অবস্থা, তায় জীবন সাম্পানের পালে লেগেছে ভোটের গরম হাওয়া। আপনাদের ফানুস দশা উপলব্ধি করে আমার পূর্ণ সহানুভূতি জানিয়ে শুরু করছি ‘ভোটের ভট্ভটি’।

পড়তে থাকুন

বিদেশে বাঙালীয়ানা

দেশ হইতে সদ‍্য আসিয়াছে নধর কচি পটলের দল। মহানন্দে খাবলাইয়া থলেতে ভরিতেছি। সন্নিকটে আরো কিছু মহিলাকুল ঘুরঘুর করিতেছে পটল তুলিবার আগ্রহে। পটল বাছিতে বাছিতে তাহারা পটাপট দূরাভাষে পটলাগত বার্তা ব্রডকাস্ট করিতে লাগিল — ‘দেশের পটল আসিয়াছে! শীঘ্র আইস!’ আমাদিগের হাবভাব দেখিয়া মাতা ঠাকুরাণীর চক্ষু কপালে উঠিয়া গেল। বুঝাইয়া বলিলাম, এদেশে পটল হইল ডুমুরের ফুলের ন‍্যায়। তাই পালে পার্বণে বাজারে উঠিলে সেলিব্রিটির মর্য‍্যাদা পাইয়া থাকে।

পড়তে থাকুন

আ লা কার্ট পয়লা বোশেখ

বাঙালীর বাড়িতে আর তুমি বেলন-চাকি পাবে না। লাস্ট ছিল পাড়ার গিরি ঠাকুমার বাড়িতে। ঠাকুমা টেঁসে গেলে ওর ছেলে গিয়ে ওটা মিউজিয়ামে দান করে এসেছে। কোলকাতায় এলে এবার যেও। হাতে করে ঘোরানো ডায়াল ফোন আর হাতে দম দেওয়া দেওয়াল ঘড়ির পাশে মানানসই হয়েছে হাত ঘোরালেই নাড়ু, স‍্যরি, রুটি খাওয়ার বেলন-চাকিটা।

পড়তে থাকুন

নতুন বছরের তালপাতার ভেপুঁ

এবার নববর্ষে আমি নর্থপোলের মুণ্ডদেশ ডেনমার্কেই কাটাবো। মায়ের জন‍্য স্বভাবতঃই মনটা উচাটন। একলা মানুষ! দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে মার সাথে ফোনে গল্প জুড়লাম। ‘কি করতে মা তোমরা ছেলেবেলায় পয়লা বৈশাখে?’

‘করুম আর কি?’ বলে কথা শুরু করলেও পাক্কা দশ মিনিট ধরে মা স্মৃতিচারণ করে গেল। বেশ লাগছিল কিন্তু শুনতে। ভাবলাম, মায়ের ফেলে আসা পুরনো সেই দিনের কথা আজ নতুন বছরের আলোর প্রভাতে সবার সঙ্গেঁ মিলেমিশে ভাগ বাঁটোয়ারা করে নিলে কেমন হয়!

পড়তে থাকুন

চৈত্র সেল

‘তোমার বসন্ত গেছে তেল আনতে। এবার ভাজাপর্ব শুরু হবে। গুরুদেব গরমের যেমন মর্জি। বেক্ড্, গ্রীলড, ভাপা, পোড়া। তোমার আর কি! থাকো তো গায়ে বোঁটকা গন্ধওয়ালা ইগলুওয়ালাদের পড়শি হয়ে। যতো বড়শি তো গিলছি আমরা!’

পড়তে থাকুন

অথঃ ফ্লাইওভার গত

পয়লা এপ্রিলের আগের দিন বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ গনেশ টকীজের কাছে বিবেকানন্দ সেতুর একটা বড় অংশ পুরো ভেঙে পড়লো রাস্তায়। ছুটিছাটার দিন নয়। রাস্তা ভরা যান। তাতে ভরা বিভিন্ন বয়সের মানুষ। এক মূহুর্তে সব ভ‍্যানিশ্!

পড়তে থাকুন

বুকে আয়, বুকে আয়!

‘আর বলুনি বৌদি! আজ দুদিন ধরে গবাদা এ‍্যায়সান বিরক্ত করতেচে। যখুন তখুন শুদু এক বায়না – বুকে আয়! বুকে আয়!’

পড়তে থাকুন

শুরু হোলো বং ঢং ডট কম্

শেষে আমার নিরন্তর কোঁ-কোঁ সইতে না পেরে কর্তা বললেন, ‘লেখালেখির ঢং ঢাং বন্ধ করছো কেন? কে বারণ করেছে? তোমার নিজের একটা ব্লগ করো। তারপর তোমার মনের যতো হাঁসজারু আইডিয়া আছে লিখে ফেলো! তবে হ‍্যাঁ, কতো লোকে পড়বে, না পড়বে, কি কমেণ্ট দেবে না দেবে, তা নিয়ে কোঁকাতে বোসো না। তোমার লেখার রং ঢং। তোমারই ডট কম্। লাল বাতি জ্বললে দোকান বন্ধ্!’

পড়তে থাকুন
1 5 6 7