Category Archives for স্মৃতিকথা

বামুনবাড়ি

টুনির জীবনের তিন দশক পার হয়ে গেছে কবেই। দিন যাপনের চালচিত্রের পটেও পড়েছে কাল বদলের কত রূপরেখা। বাবা চলে গেছে। ভাই বোন যে যার মতন ব‍্যস্ত। ব‍্যস্ত টুনি নিজেও, তার উপর বহু বছর দেশছাড়া। দেশের সাথে নাড়ির টানটুকু বলতে একমাত্র মা। মায়ের শরীরটা ভালো যাচ্ছে না জেনেও কাজের চাপে টিকিট করে উঠতে পারছিল না টুনি। […]

পড়তে থাকুন

এপ্রিলের ফুল

বয়েস যখন দু’ কুড়ি পার অথচ মনের বাসনাটা ফুলদল শাখাপ্রশাখায় মেলে উঠছে না কিছুতেই, তখন বুঝলাম ‘গোপন কথাটি রবে না গোপনে।’ মামার নাকের ডগায় হাত ফেলে দিয়ে বললাম, “দ‍্যাখো তো, লেখক টেখক হতে পারব কি না!” মামা কিছুক্ষণ হাতের বদলে মুখ জরিপ করে বলল, “কেন? তুই তো ম‍্যাগাজিন-ট‍্যাগাজিনে লেখা পত্তর দিস মাঝে মাঝে! সে সব […]

পড়তে থাকুন

Indian Diaspora in Europe প্রোজেক্টে আমার প্রোফাইল

প্রখ‍্য‍্যাত সাংবাদিক কৌন্তেয় সিহ্না কিছুদিন আগে আমার একটি ইন্টারভিউ করেন তাঁর Indian Diaspora in Europe প্রোজেক্টের জন‍্য‍। তিনজন ফটোগ্রাফার সাংবাদিক এই প্রোজেক্টের জন‍্য‍ ইউরোপে নানা দেশে বসবাসী ভারতীয়দের নিয়ে ছবি আধারিত রিপোর্ট তৈরী করছেন, যা সঙ্কলিত হবে একটি প্রদর্শনীতে এবং প্রকাশিত হবে একটি বইয়ের আকারে। তাঁর তোলা আমার এই ছবিটি স্থান পেয়েছে এই প্রোজেক্টের Instagram পেজ-এ।

পড়তে থাকুন

দুগ্গা দুগ্গা

শেষে এক গোয়াল বৌ লাল শাড়িতে ভিজে দোপাটি হয়ে আমাকে শুধোলে, ‘খাড়ায়ে ক‍্যান রে, মা?’ বললাম বৃত্তান্ত। ইশারায় সে নিজেই ডেকে নিল গোশালে। দর্মার বেড়া ছাওয়া। কাদা গোবর লেপা। মাচার মাথায় ভিজে খড় বেয়ে টুপটাপ। নিরীহ চোখে বাইরের তাণ্ডব জরীপ করছেন গো মাতা। পেলাম তাঁর কৃপা। কৃপাকণাকে আবার বুকে চেপে ফিরে যেতে হবে আরও সাবধানে। সাত রাজার ধন মানিক পোয়াটাক দুধ নিয়ে বীর বিক্রমে যখন পেছন ফিরলাম, গোয়ালনী মায়ের কণ্ঠে বলে উঠলে, ‘দুগ্গা দুগ্গা।’

পড়তে থাকুন

বামুনবাড়ি

প্রতিলিপির প্রতিযোগীতায় দেওয়া আমার ছোটবেলার স্মৃতিকথার গল্প “বামুনবাড়ি”। নীচে দিচ্ছি তার থেকে কিছু লাইন। আপনারা প্রতিলিপির ওয়েবসাইটে গল্পটা পড়ে কমেণ্ট দিন, জানান কেমন লাগলো। আরো অনেকের লেখা স্মৃতি-গল্প পড়তে পারবেন ওদের ওয়েবসাইটে।

পড়তে থাকুন

খোসলা কা ঘোসলা – দ্বিতীয় পর্ব

এরই মাঝে স্টীন্ আখর দিয়ে আমাদের পরিচিত সুরে শুরু করে দিয়েছে বাড়ির গুণকীর্তন পালা। সুর ধরে ধরে আমরা ড্রইং-ডাইনিং পেরিয়ে কিচেনে পৌঁছলাম। এখানকার অবস্থাও তথৈবচ। টেবিলের উপর পেট কাটা তরমুজ। তার অর্দ্ধেক শাঁস কুরিয়ে খাওয়া হয়েছে। সিঙ্কে গাদাগুচ্ছের এঁটো বাসন। টেরিয়ে টেরিয়ে দেখছি, হঠাৎ ভীষণ দুম্ দুম্ দুম্ দুম্ শব্দে কাঠের মেঝে সহ গোটা ফ্ল‍্যাট থরথরিয়ে কেঁপে উঠল। ভূমিকম্প না কি!

পড়তে থাকুন

খোসলা কা ঘোসলা

সিটি সেণ্টারের বাস ধরবো বলে হা পিত‍্যেশ করে দাঁড়িয়ে আছি। ট্র‍্যাফিকের চাপ থাকে সকালটায়। বাসও দেরী করে মাঝে মধ‍্যে। তারপর দেখা যায় একসাথে পরপর তিনটে এসে হাজির। বেশ ভিড়, তবু তারই মধ‍্যে কোনোক্রমে দাঁড়াবার একটু জায়গা পেলাম। দেখি সামনের সীটে জালনার ধারে, আরে! প্রীতম খোসলা না! সদ‍্য মুম্বই থেকে এসেছে। আমার কর্তার কোলীগ। খোসলার তুম্বোমুখ দেখে মনে হচ্ছে না সুখবর। তবু ভিড় পাতলা হতে পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলাম। বললাম, ‘হ‍্যালো!’ চমকে মুখ ফেরালেন, ‘হ‍্যালো জী হ‍্যালো।’

পড়তে থাকুন

চিঠি লেখা

ছেলেবেলায় কোলকাতার বাইরে আত্মীয়স্বজনকে চিঠি লেখার মরশুম আসত এক বারই। দূর্গাপূজোর পর পর পোস্টাপিস খুললে বাবা একগোছা হলুদ পোস্টকার্ড আর নীল কাগজের ইন্ল‍্যাণ্ড কিনে আনত। রবিবারের দুপুরে খাওয়া দাওয়া সেরে হালকা রোদের তাপে ছাদে মাদুর বিছিয়ে চুল শুকাত মা। আর চিঠি লিখত। দিল্লী, নাগপুর, যাঁরা যাঁরা কোলকাতার বাইরে আছেন, তাদের জন‍্য ইনল‍্যাণ্ডের নীল খাম। আর যাঁরা কোলকাতার আশেপাশে মফঃস্বলে থাকেন তাদের জন‍্য বরাদ্দ হলুদ পোস্টকার্ড।

পড়তে থাকুন

নতুন বছরের তালপাতার ভেপুঁ

এবার নববর্ষে আমি নর্থপোলের মুণ্ডদেশ ডেনমার্কেই কাটাবো। মায়ের জন‍্য স্বভাবতঃই মনটা উচাটন। একলা মানুষ! দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে মার সাথে ফোনে গল্প জুড়লাম। ‘কি করতে মা তোমরা ছেলেবেলায় পয়লা বৈশাখে?’

‘করুম আর কি?’ বলে কথা শুরু করলেও পাক্কা দশ মিনিট ধরে মা স্মৃতিচারণ করে গেল। বেশ লাগছিল কিন্তু শুনতে। ভাবলাম, মায়ের ফেলে আসা পুরনো সেই দিনের কথা আজ নতুন বছরের আলোর প্রভাতে সবার সঙ্গেঁ মিলেমিশে ভাগ বাঁটোয়ারা করে নিলে কেমন হয়!

পড়তে থাকুন