মাইক্রো বৌ

Read this story in PDF format if your browser doesn’t display Bangla script properly.

মুখুজ্জে পরিবারের জৈষ্ঠ্যপুত্র ব্রজকিশোর। পিতার সংসারের জোয়াল টানতে টানতে একটা সময়ে সংসারজীবন সম্বন্ধে রীতিমত উদাসীন হয়ে পড়েছিলেন। শেষে অর্ধবাহ্যদশাপ্রাপ্ত হয়ে আধ্যাত্মিক জগতের বন্ধনে মুক্তি খুঁজে পেতে কোমর বেঁধে লাগলেন। মাতা, বৃদ্ধ অসুস্থ পিতা, ভগিনীকুল, ভগিনীপতি এবং তস্য সন্তানাদির শতাধিক গোলমালে তিনি জড়িত। এখনো নিজেকে স্থিতধী রেখেছেন শুধু সংসারের গোলটি ছেড়ে মালটি বেছে নেওয়ার কারণে। অর্থাৎ সংসারে থাকেন পাক্কা সঙটি সেজে। নতুবা সংসারের নিতি নিতি কিম্ভূতকিমাকার সমস্যার জাঁতাকলে পড়ে এতদিনে তাঁর জেরবার হয়ে যাওয়ার কথা।

এমন নয় যে ব্রজবাবুর পিতার আর্থিক অসঙ্গতি আছে। অসঙ্গতি যা কিছু তা রাধারমণবাবুর জীবনদর্শনে। ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ — এই মন্ত্রে দীক্ষিত রাধারমণ জীবনের সঞ্চয়াদি উড়িয়ে দিয়েছেন স্রেফ খেয়ে দেয়ে আর বগল বাজিয়ে। ঘরে বিবাহযোগ্যা কন্যাত্রয়, পুত্রের ভবিষ্যৎ, বৃহৎ সংসারের সুরক্ষার জন্য সুপ্রতুল অর্থসঞ্চয় কিছুই তাঁর বাবুয়ানার বাঁধার কারণস্বরূপ ধোপে টিকতে পারেনি। উল্টে অষ্টাদশ বর্ষ পেরোতে  না পেরোতে পুত্রকে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর বাগাল বৃত্তি বন্ধ করে দুটো উপার্জনের ধান্দা দেখার কড়া সমন ধরিয়েছিলেন।

বাড়ির কর্তার বিবিধ কার্যকারণের অসঙ্গতিতে স্বভাবতঃই স্ত্রী চপলেশ্বরীর মেজাজ সর্বদাই পলতের মুখে আগুনের মতো গরম হয়ে থাকতো। গাছ পালা, পানা পুকুর ঘেরা মফঃস্বলের শান্ত এই পাড়ার মধ্যে কেবল ব্রজবাবুদের বাড়ির অঙ্গন থেকেই সমবচ্ছর বিভিন্ন স্বরগ্রামের উড়নতুবড়ি ফুটতো ফাটতো। পতির প্রতি অসহ্য রাগের লাভা বর্ষণের ছ‍্যাঁকা সন্তানদেরও কমবেশী দিতেন চপলেশ্বরী। ভগিনীকুলের মুখপাত্র হিসেবে ব্রজবাবুর স্কন্ধেই ভারী ভারী বাক্যবাণের মুষ্টি বর্ষণ হত বেশী। অতএব কিশোরবেলার কোন মধুর রেশ ব্রজবাবুর জীবনাঙ্গনে প্রবেশ করতেই পারল না কোনোদিন, উল্টে তাঁর ব্যক্তিত্বে এল সর্বদাই একটা সঙ্কুচিত ত্রস্তভাব।

ব্রজবাবুর বয়স তখন প্রায় চল্লিশ ছুঁই ছুঁই। মনের আনাচে কানাচে বৈরাগে্যর জাফরানি রেণুকণারা মাখামাখি হয়ে আছে। কর্মক্ষেত্র আর মঠ মন্দির, এই ছিল ব্রজবাবুর বিচরণক্ষেত্র। ইতিমধ্যে কনিষ্ঠা ভগিনী স্ব উদ্যোগে নিজের ভাগ্যের সদ্গতি সেরে নিয়েছে। কানের কাছে চপলেশ্বরীর নিত্য গঞ্জনা — ‘বলি, আমি মলে তোকে দেখবে কে? তখন ঐ রামকেষ্টই বলো আর প্রাণকেষ্টই বলো, দুনিয়ায় কেউ কারো নয়। দুর্দিনে ভগবানও চোখ উল্টে নেয়।’ ‘পুরুষমানুষের আবার বয়স কি?’ ইত্যাদি। শুনে শুনে ব্রজবাবুর বৈরাগ্যের পালে কিছু পাল্টা হাওয়ার টান পড়লো।

চপলেশ্বরীর নিত্যি ঘ্যানোর ঘ্যানোরে তিতিবিরক্ত হয়ে ব্রজকিশোর মনের কথাটি খুলেই বললেন আপিসের বন্ধুপ্রবর যজ্ঞেশ্বরকে। সঙ্গে সঙ্গে আঁতকে উঠে বন্ধু বললেন, ‘খামখা কেন মিছে বলির পাঠাঁ হতে চাইছেন বুঝছি না। দিনকাল আর সুবিধের নেই মশায়, গোপনে ক্ষীর খেয়ে গোঁফটি পুঁছে ঘাপটি মেরে থাকার দিন চলে গেছে। ঐ গোঁফ ধরে যখন মেয়েমানুষ আর তার গোটা ফেমিলি ঝুলে পড়বে সে ভার সামলাতে পারবেন তো?’

শুনে বুক কেঁপে উঠলেও মুখে বিরক্তি প্রকাশ করে ব্রজবাবু বললেন, ‘কি যা তা বকছেন!’

‘যা তা? তবে শুনুন।’ অফিস ক্যাণ্টিন ততক্ষণে ফাঁকা হতে শুরু করেছে, লাঞ্চ টাইম ওভার, তবু জম্পেশ করে ধুতিটা গুছিয়ে একটা বিড়ি ধরালেন যজ্ঞেশ্বর। ‘আমার ভায়রা ভাই তার ছেলের জন্য পাত্রী দেখছিল মশাই। ল্যাখাপড়া জানা ভালো চাকরি করা ছেলে। এক উকিল বাড়ির মেয়ের খোঁজ এলো। দেখাশোনা করতে এসে মেয়ের বাপ এক কণ্ট্রাকটের চিটি ধরায় ভায়রা ভায়ের হাতে। কি? না হাজারটা শত র্ মশায়! বিয়েই হল না। বলে বিয়ে ভাঙলে এতো টাকার  খোরপোস দিতে হবে, সন্তান হলে তার দাবি করতে পাবে না, বিয়েতে যা খরচ খরচা হবে, সেটা ভোগে গেল ভেবে নিতে হবে, কিন্তু মেয়ের সঙ্গে আসা সব প্রপাটর্ি তদ্দণ্ডে ফেরত দিতে হবে, এইসব! বলে, “ছেলের একটা পাসপোটর্ সাইজ ছবি আর রেশন কাডর্ের কপি দিন, লোকাল থানায় জমা দোবো।” বুঝুন ব্যাপার খানা!  তবে…’ বিড়ির সদ্গতি সেরে উঠে দাঁড়ান যজ্ঞেশ্বর। ‘…আপনি যদি একান্তই মনস্থির করে ফেলেছেন তো বলি, পাত্রী মশায় আপনার চোখের সামনেই ঘুরঘুর করছে!’

শুনে কিছু সন্ত্রস্ত হলেন ব্রজবাবু। চারদিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তেমন কিছুই নজরে পড়ল না। কেবল ক্যাণ্টিনের কাউণ্টারের সামনে দাঁড়িয়ে মনোযোগ দিয়ে খুচরো পয়সার হিসেব নিচ্ছেন যুধিষ্ঠিরবাবু।

মিচকি হেসে যজ্ঞেশ্বর বললেন, ‘ঠিক অ্যাঙ্গেলেই তাকিয়েছেন মশায়। যুধিষ্ঠিরবাবু ওঁর কে এক তুতো শালাবাবুর মেয়ের জন্য একটি সৎ পাত্রের খোঁজে আছেন। পাত্রীও ত্রিশোর্দ্ধ। নাম চারুলতা।’

কন্যার নাম শ্রবণে ব্রজকিশোরের বক্ষমালঞ্চে নববসন্তের কিঞ্চিৎ দোলা লাগলো, কিন্তু বাইরে বয়সোচিত গাম্ভীর্য্য ধরে রেখে ব্রজবাবু মনস্থির করলেন সামনের রবিবারের বিকেলে যাবেন যুধিষ্ঠিরবাবুর  বাড়ি আমতায়। বলা বাহুল্য সুখবরটি শুনে, মেঘ না চাইতে জল পাওয়ার মতো আনন্দে বিহ্বল হলেন যুধিষ্ঠিরবাবু।

দু পক্ষেরই বেশী বয়সের বিবাহ,  ব্রজবাবু তাই সবকিছুই নিতান্ত সাধারণ পর্যায়ে রাখতে চান। অযথা হাঁকাহাঁকি ডাকাডাকি এককাঁড়ি আড়ম্বর আয়োজন এসবে তাঁর প্রবল আপত্তি। কেবল যজ্ঞেশ্বরবাবুর সঙ্গে তিনি আসবেন। খাদ্য সম্ভারাদি ও আনুষঙ্গিক যত্নআত্তির কোন বাড়াবাড়ি যেন না করা হয় মেয়েপক্ষকে সে কথা জানানো হয়েছে।

আকাশ জুড়ে পূর্ণচন্দ্র। ঝিরিঝিরি বাতাসে কাঠ চাঁপার হালকা গন্ধ। মোমজোছনার আলো গায়ে মেখে গীর্দেবী আর গায়ত্রী চা মুড়ির বাটি নিয়ে ছাদে মাদুর পেতে বসেছে। আশা আশঙ্কায়  দু বোনের মুখ গম্ভীর, বক্ষ কম্পমান। বৌদিদি যদি শান্ত সুশীলা হ’ন তাহলে তো ভালোই। সংসারে বাড়তি একটা হাত পাওয়া যায় সাহায্যের। তাদের জীবনের সাধ আহ্লাদ বলতে আর কি! এক এক সদস্যের এক এক ঝক্কি সামলাও শুধু। দাদার বায়না শুধু নিরামিষ খাবেন। মায়ের আবার  দুবেলা দু টুকরো মাছ না হলে রোচে না। এই বয়সেও রাধারমণবাবুর আহারের পারিপাট্য চাই, নইলে গালি গালাজ জোটে সেখানেও। মায়ের নেশার জর্দাপান, টাইমের চা — পান থেকে চুন খসার উপায় নেই। তার উপর মায়ের মুখের বোলতানে এ বাড়িতে ঠিকে ঝির পরমায়ু বলতে মাস দেড়েক। পেছনবাগের অতোবড় বাগান ঝাঁটো, তার ফুল ফলের পরিচর্যা, ঘর ঝাড়ামোছা, কাচাকুচি, পারা যায়! এ সংসারে এক রামে রক্ষা নেই তায় দাদা গেছেন সুগ্রীব দোসরের খোঁজে।

হাওড়ার এদিকটা বেশ গ্রাম গ্রাম। পাড়াপথের পাশে জলভরা টলটলে পুকুরে পূর্ণচাঁদের রূপোলি চিক্ বিছোনো। নারকোল বাগান, কলা বাগানের ঘন ঝাড়। টুকটাক কথা বলতে বলতে মলয় বাতাস কেটে দুই বন্ধুতে পৌঁছে গেলেন যুধিষ্ঠিরবাবুর বাড়ি। ‘আসুন আসুন’ করে খাতির করে তাঁদের বসার ঘরে বসানো হল। যুধিষ্ঠিরবাবুর পৈত্রিক বাড়ি। উপযুক্ত তদারকির অভাবে বড় জীর্ণ, মলিন। তা হোক, এই মলিনতার পঙ্কেই কোথাও পদ্মের মতো ফুটে আছে চারুলতা, এই ভেবে মনে মনে বেশ চনমনে হয়ে উঠলেন ব্রজবাবু।

চল্লিশ পেরোলেও দীর্ঘাঙ্গ শ্যামল ব্রজবাবুর মুখে চোখে কেমন যেন একটা সতেজ ভাব আছে। মাথার সামনেটা কিঞ্চিৎ ফাঁকা মাঠ হলেও মন তাঁর সবুজ কচি ঘাসে ভরা। বাঙালীর চিরকেলে পোষাক ধুতি-পাঞ্জাবীতেই তিনি সৌম্য। ধ্যানধ্যারণাও তাঁর সাবেকী। এই এখন যেমন, ভাবাবেগের প্রাবল্যে তিনি একটু যেন দিশেহারা। আরে বাবা, জীবনসঙ্গীঁ নির্বাচন কি কম বড় কথা? সুখে দুখে বিপদে সম্পদে যে হবে কিনা আত্মার আত্মীয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এরকম একটি সুকোমল অথচ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রেক্ষাপট হিসেবে এ গৃহের বাতাবরণ একেবারেই উপযুক্ত নয়।

এসে থেকেই দেখছেন বাড়ি ভর্তি বিভিন্ন আকৃতির ছানাপোনার আনাগোনা। তারা কেউ এসে ব্রজকিশোরকে ভেংচি কেটে যাচ্ছে তো কেউ দরজার ময়লা পর্দার খুঁট ধরে সিকনী গড়ানো নাকে তাঁকে হা করে গিলছে। কেউ ফচ্কেমি করে তাঁর মোবাইল ফোন  নাড়ছে চাড়ছে তো কেউ জ্যাঠামো করে ঠায় সামনে বসে তাঁর কথা বলা, হাসা জরীপ করছে। এ তো ভারি মুশকিলে পড়া গেল, মনে মনে অস্থির হন ব্রজবাবু। পরিবেশ বলে একটা ব্যাপার আছে তো না কি! এরকম ইকিড় মিকিড় চাম চিকিড়ের ভিড়ে চারুলতার চোখে চোখ মেলাবেন কি করে!

বাচ্চার পঙ্গপাল মহা বিচ্ছু। যত হুটোপাটি, হাসাহাসি, চ্যাঁ ভ্যাঁ সব এই ঘরেই করতে হবে। কোথা থেকে বুক খোলা সেমিজ আর ইজের পরা এলোঝোলো মার্কা এক মেয়ে হাতে একখানা আটার রুটি ধরে একছুটে  ঘরে এসে ঢুকলো, তারপর ব্রজবাবুকে ধাক্কিয়ে সটান একেবারে তাঁর চেয়ারের তলায়। তার পিছন পিছন এলো সিকনী গড়ানো নাকে আর এক সাইজ ছোট খুকী। ‘অ্যাই পু, উটি দে, দিবি না?  অ মা… আ…’ বলে তারস্বরে কান্না জুড়লো। যুধিষ্ঠিরবাবু বার তিনেক ‘এই যাঃ, পালা এখান থেকে, পালা এখান থেকে,’ বলে এদের ভাগাবার চেষ্টা যে করেননি এমন নয়, কিন্তু এরা তাঁকে পাত্তা দিলে তো!

এমন সময় ভেতরবাড়ি থেকে হাড়হিম করা হিড়িম্বাতুল্য এক কণ্ঠস্বরে ব্রজবাবুর হাতের ধূমায়িত চায়ের কাপখানা কেঁপে উঠল। — ‘আ… ম’লো যা, হাড় হাবাতে হতচ্ছাড়াগুলার কাণ্ড দ্যাখোসে! বাইরের লোকের সামনে  যত্তো ব্যায়ড়াপনা! আয় ইদিকে, আজ হাড্ডি না পাট পাট করিচি তো!  ইদিকে আ…. য়…!!!’

এই বিকট চীৎকারের আকস্মিকতায় ব্রজবন্ধু যজ্ঞেশ্বর চমকে উঠে নাকের ভেতর দিয়ে বেমক্কা গরম চা টেনে নিয়ে হেঁচে কেশে একাকার কাণ্ড বাধিয়ে তুললেন। দেঁতো হেসে অপরাধী গলায় যুধিষ্ঠিরবাবু  বললেন, ‘হে, হে, গিন্নী।’ ভগবান! চা দিতে আসা ঐ চার ফুট ইঞ্চিখানেক হাড়সর্বস্ব শরীরের খাঁচায় অমন ব্যাঘ্রতুল্য কণ্ঠস্বর ভরে দিয়েছেন ঈশ্বর?!

এ সবের মাঝেই ঘরের ম্যাটমেটে নীল দেওয়ালে যেন  জ্যোতি ফোটে। ময়লাটে বেডকাভার, পর্দা তত আর ম্লান দেখায় না। থান ইঁটে উঁচু করা ঘরজোড়া তক্তপোষ, বেতের চাকলা ওঠা চেয়ারগুলো, ক্ষয়াটে কাঠের লম্বা আয়তাকার টেবিল, মায় কালো কাঠের ফ্রেমের  হদ্দ পুরনো ঘষা কাঁচের আলমারি, তার পেটে পোরা সংসারের হেন তেন সাত সতেরো সবকিছুই এক লহমায় বড় মধুর লাগে ব্রজকিশোরের চোখে। আট পৌরে সাজে ঘরে এসে গেছে চারুলতা। হাতে রসগোল্লার থালা।

শশব্যস্ত হয়ে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে প্রবল বাধা পান ব্রজবাবু। পেছন থেকে কে যেন  তাঁর কোঁচা ধরে তীব্র টান টানে!  অতএব নীলডাউন হয়েই দাঁড়িয়ে রইলেন দেঁতো হাসি হেসে। এ কি গেরো! চারু অবশ্য গম্ভীর মুখে রসগোল্লার থালাটি টেবিলে রেখে খাটের বাজু ধরে এক কোণে বসে পড়েছে। যজ্ঞেশ্বর কিঞ্চিৎ উঠে কাশির দমকে দমকে ফের বসে পড়েছেন। তিনিও সবে চেয়ারখানায় পশ্চাদ্দেশটি ঠেকিয়েছেন, কি একটা জিনিসে চাপ পড়তেই ‘প্যাঁ’ করে এক বিকট আওয়াজ! চকিতে হাত বাড়িয়ে পেছন থেকে ব্রজবাবু বার করে আনলেন একটি ভেঁপু! তখনই দেখলেন তাঁর চেয়ারের তলায় বসে ‘পু’ তার চরম কুকীর্তির নজিরটি রেখে গেছে। তাঁর কোঁচার খুঁটটি চেয়ারের পেছন পায়ার সাথে গিঁঠ বাঁধা। এদিকে যুধিষ্ঠিরবাবুর ছোট খুকী ঐ রুটির লোভে অনেকক্ষণ ঘুরঘুর করছিল বটে তাঁর আশেপাশে। তাঁর নীলডাউন অভিবাদন সারার অবসরে সে যে কখন ভেঁপুখানি তাঁর চেয়ারে ফেলে প্রস্থান করেছে তা কে জানে?

আচমকা ভেঁপুর শব্দে ঘরের সবাই  চমকে উঠল। ‘দেখেছেন? দেখেছেন?’ বলে যুধিষ্ঠিরবাবু ভেঁপুখানি বাগিয়ে ধরে দিলেন খাটে ছুঁড়ে। ঠিক সেই সময় ঘরে খুকীর প্রবেশ। সে এসে নাকি সুরে ‘আমাল ভেঁপু কোতায় গেলো, আমাল ভেঁপু কোতায় গেলো’ করতে করতে ব্রজবাবুর পশ্চাদ্দেশে চিরুনীতল্লাসি শুরু করে দিলো। ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থায় ব্রজবাবু কোনক্রমে বলে উঠলেন,  ‘ঐ যে, ঐ যে খাটে!’ ব্যস, আর যায় কোথা! সাধের ভেঁপুর পরহস্তকর্তৃক অকস্মাৎ স্থানপরিবর্তনের অপমান খুকী মেনে নিতে পারল না। তুমুল কান্না জুড়ল। তারপর কেন জানি তার মনে হল একমাত্র খট্টোপবেশনরতা চারুই যত নষ্টের গোড়া। অতএব সে এক পা খাটে তুলে ডিঙ্গিঁ মেরে ওঠার চেষ্টা আর অন্য পায় চারুকে ‘আমাল ভেঁপু দে, আমাল ভেঁপু দে’ বলে দেদার লাথৌষধ দিতে লাগলো।

‘আহা, আহা’ করে মহাব্যথিত হয়ে ব্রজবাবু চারুকে এই লাঞ্ছনার হাত থেকে রক্ষা করতে উঠলেন। ইতিমধ্যে তিনি পু-এর কুকীর্তির বন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করেছেন। ততক্ষণে খুকী খাটে উঠে হামলে পড়েছে চারুর উপর। মূহুর্মূহু চড়চাপড় চলছে। দু হাতের চেষ্টায় চারু যতটা পারছে আটকাচ্ছে। যুধিষ্ঠিরবাবু  ‘আর বলবেন না মশাই, সংসারের জ্বালায় প্রাণ ওষ্ঠাগত’ ইত্যাদি বলছেন আর মেয়েকে কব্জা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। অকস্মাৎ চারুর পিতা ভবানীবাবু, যিনি এতক্ষণ নিরীহপ্রায় আলমারির কোণ ঘেষে একটি টুলে একরকম অদৃশ্য হয়ে বসেছিলেন, বাঁজখাই গলায় ‘অ্যাই!’ বলে তাড়া করে এলেন খুকীর দিকে। ঘরে যেন বোমা ফাটল সে চীৎকারে। ‘নাব্! নাব্ বলছি পাজি বজ্জাত মেয়ে কোথাকার!! গায়ে হাত দোওয়া?’

গালিগালাজের তীব্র স্রোতে খুকী মূহুর্তখানেক থমকালেও পরমূহুর্তেই দ্বিগুন কান্না আর উদগ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ল চারুর উপর। এবার চারু ‘মাঁ আঁ আঁ আঁ’ বলে চ্যাঁচাতে লাগলো। যুধিষ্ঠিরবাবু এবং তস্য হিড়িম্বাকণ্ঠী পত্নী কিছুতেই খুকীকে চারুছাড়া করতে পারলো না। তুমুল চিৎকার, কান্না, ঝড়ের মুখে কুটোখড় সামলানোর মতো জেরবার চারুর অসহায় আর্তি, যজ্ঞেশ্বরের কাশি সব মিলিয়ে, মেয়ে দেখা মাথায় উঠল ব্রজবাবুর। কাছা কোঁচা সামলে উঠে তো তিনি দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু এই ডামাডোলে সামলাবেন কাকে তাই স্থির করতে পারছেন না। তখনই চারুর ‘না-না-না-আ-আ-আ’ বলে তীক্ষ্ণ চীৎকার, ভবানীবাবুর ‘গেলো গেলো সব গেলো’ বলে খাটের উপর ব্যাঘ্রবৎ ঝম্প, হিড়িম্বার ‘ছাড়, ছাড় বলচি, ভেঙ্গে হাত গুঁড়িয়ে দোবো’ চীৎকার এবং শেষে খুকী-চারু ও ভবানীবাবুর তুমুল ঝটপটি। তারপর শুধুই ‘বাবা, বাবা গো…’ ‘আমাল ভেঁপু…’ ‘ছাড় হারামজাদি…!’

এক সময়ে এই ঘোরো ঝড় থামলো। কান্না ভুলে খুকী নাকের বদলে নরূণ প্রাপ্ত জিনিসটা মুখে পুরে চিবোচ্ছে। ভবানীবাবু হেঁটমুণ্ড হয়ে মেঝেতে থ্যাবড়ানো। ছেলেপিলের চীৎকার অকস্মাৎ এতো কম কেন? চোখের সামনে যা দেখছেন ব্রজ, এ কি স্বপ্ন না বাস্তব! তাঁর স্বপ্নের চারুলতা সম্পূর্ণ বেলমুণ্ডী হয়ে দুহাতে মুখ ঢেকে তাঁর সামনে দাঁড়ানো। খোলা জালনা দিয়ে মস্তকে চাঁদের চকমকি ফুটছে!  আর মস্তকাবৃত চুল এখন খুকীর কব্জায়! যুধিষ্ঠিরবাবু এক নাগাড়ে কানের কাছে ভিনভিন করছেন, ‘এ কি ব্যাপার, বাব্বাঃ, এ কি ব্যাপার!’ যজ্ঞেশ্বরের হাঁচি কাশি থেমেছে অনেকক্ষণ। ভদ্রলোক এখন এন্তার হেঁচকি তুলছেন।

মিনিট খানেক সকলেরই ‘ন যযৌ ন তস্থৌ’ অবস্থায় কাটলো। চারুলতা এক ছুটে ভেতরবাড়িতে প্রস্থান করলো। বিভ্রান্ত ব্রজবাবুর হাতদুটি ধরে যুধিষ্ঠিরবাবু বারংবার ক্ষমা চাইতে লাগলেন, কিন্তু কোন কথা, কোন স্তোক ব্রজকিশোরের কর্ণকুহরে প্রবেশ করছিল না। বরফঠাণ্ডা মেরে যাওয়া সিঙারার প্লেটের উপর যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উড়ে আসা বোমার টুকরোর মতো ভেঁপুর দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন তিনি। তারপর যজ্ঞেশ্বরের হাত ধরে হেঁচকা টান মেরে সোজা রাস্তায়। পিছনে যুধিষ্ঠিরবাবুর ভাঙা রেকর্ড বেজেই চললো, ‘আমি এসবের কিছুই জানতাম না, বিশ্বাস করুন!’

এই ঘটনা ব্রজবাবুকে আমূল বদলে দিলো। স্ত্রীলোকের সামনে তিনি আড়ষ্টতম হয়ে উঠলেন। স্ত্রী লোক তাঁর চক্ষে হয়ে উঠলো আমড়া সদৃশ। আমড়ায় আছেটা কি? আঁটি আর চামড়া। অতএব ভোলা মনকে কুলে ভেড়াতে তিনি উঠে পড়ে লাগলেন।

পরদিন কাক ভোরে সারা পাড়া খোলের মূহুর্মূহু বোলে দুলে উঠল। পরকালের ভয় কার নেই? তাই খোলের ঢিলটি খেয়ে পাপের পাটকেলটি হজম করে নেওয়াই শ্রেয় মনে করলো পড়শিকুল। কেবল খানকতক খুনখুনে বুড়োবুড়ির দল বেজায় খুশি হল বিনি মাগনায় ভজনগান বিতরণে।

এখানেই থামলেন না ব্রজবাবু। সাধনভজনের পথে নিষ্ঠার পরাকাষ্ঠার শেষ দেখে ছাড়লেন। কাক ভোরে উঠে জপ ধ্যান করলেন। শুরু হল হরির লুঠ, কথাপাঠের আসর, ধর্মপুস্তক পঠন পাঠন, সৎসঙ্গ, মৌনব্রত পালন ইত্যাদি। নিরিমিশ তো ধরেইছিলেন এবার আলিঙ্গন করলেন। কামরহিত ভোজনাদির দিকে বিশেষ নজর দিলেন। ডুমুর, কাঁচকলা, কুলেখাড়া, থোড়, মোচা, ইঁচড়াদি অর্থাৎ মহিলাকুলের আঁতকে ওঠার মতো যত রান্নার পদ সব নাকি শুদ্ধ সত্ত্ব আহার। ব্রাহ্মী মাথা ঠাণ্ডা করে, আমলকী ঠাণ্ডা করে কাম — অতএব রান্নাঘরের দরজার পাশে ঝিঙে, লাউডগা, বকফুল, পাটপাতা ইত্যাদির পাশে এরাও মহানন্দে জায়গা করে নিলো। ভগিনীদ্বয় চোখে সর্ষেফুল দেখলো। দাঁড়িয়ে রান্না করায় কোমর ধরে যায় বলে কুটনো কাটা চপলেশ্বরীর কাজ। তিনিও ছেলের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন না।

এক রবিবারের সকালে পূজো সেরে সবে রান্নাঘরের সামনে পিঁড়ি পেতে বসেছেন চপলেশ্বরী। আঁচলের খুঁটে চশমা পুঁছে রান্নাঘরে ব্যস্ত মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলছেন, ‘এই চা দে রে। সঙ্গে দুটো বিস্কুট দিস, আজ আর মুড়ি খাবো না।’ এক শরীর ঘাম নিয়ে ব্রজবাবু ধপাস ধপাস করে দুটো বাজারের ব্যাগ রাখলেন সামনে। ভেতরে মাল মশলা কি আছে না আছে, দু রকম শাকের আঁটি উঁকি দিচ্ছে দেখেই চপলেশ্বরী গেলেন বেজায় খেপে। ছেলেকে খিঁচিয়ে বললেন, ‘তোকে বললাম না, ঘরে কি কি আছে জিজ্ঞেস করে তবে বাজারে যা! খামোখা অ্যাতোগুলো আনলি! আবার দু রকম শাক?’ বলা বাহুল্য ও পক্ষ নিশ্চুপ। তা বলে এ পক্ষের দমে কমতি নেই। ‘আর পারি না। বৌ-এর সেবাসুখ কপালে নেইকো। আগে ছিল দিনরাত রেঁধেবেড়ে  কর্তার ঢোল ভর্তি করা আর এই বুড়ো বয়সে এখন ছেলের বেহ্মচারীত্ব সহ্য করো।’

ভগিনীদ্বয়ের নীরবতা মায়ের অভিযোগই সমর্থন করলো। খাটের উপর রবিবাসরীয়খানি পেতে বসেছিলেন ব্রজবাবু। ঘরের লোকেদের এহেন অভিযোগে তাঁর খারাপই লাগলো। সারাজীবন এদের জন্য ব্যয় করে দুটি দুটি নিরিমিশ খান, তাতে এত কথা? গলা পেড়ে হাঁকলেন, ‘গীদু…উ…, গীতু…উ…, আজ থেকে আমার সব সেদ্ধ দিবি।’

কাঁধে গামছা ফেলে স্নানঘরের দিকে যেতে যেতে  ব্রজবাবুর কানে ভেসে এলো দুই ভগিনীর বাক্যালাপ।

‘সেদ্ধ খাবো বললেই যেন সব হয়ে গেলো। সেদ্ধর তরকারি আর কুটতে বাছতে লাগে না!’

‘শাক বাছতে বাছতে আঙুলে বাত ধরে গেলো।’

‘যে আসবে তার জন্য চা বানাও, তাকেও ঐ সেদ্ধ পোড়া দিয়ে আপ্যায়ন!’

‘বোনের হাত পা আর বৌ-এর হাত পায়ে অনেক তফাত। বৌ থাকলে মাথায় করে রাখতো।’

কলঘরে বালতি ভরা শীতল জল মাথায় ঢেলে কিঞ্চিৎ ঠাণ্ডা হলেন ব্রজকিশোর। এ কি স্বার্থের সংসার! সাধে কি বাল্মীকির গলায় মরা মরা থেকে রাম নাম বুলি বেরিয়েছিল! সংসারের পাঁকে রোজ যেন একটু করে নীচে নেমে যাচ্ছেন। ঝাড়া হাত পা হয়েও কি লাভ হল তাঁর? ক’দিন থেকেই ভাবছেন সংসার কোলাহল থেকে হপ্তা দুই নির্জনে চলে যাবেন। আর্ট অফ্ লিভিং এর একটা কোর্সের কথা কদিন থেকেই আপিসে বলে চলেছেন যজ্ঞেশ্বর। ‘চলুন দু জনায় হয়ে আসি মশায়। দেখবেন, বাসি শুঁটকো মেরে ঢুকবেন আর আগাপাশতলা ফ্রেশ হয়ে বেরোবেন। ভারি এফেক্টিভ! আমার ভায়রাভাই একেবারে হাতে নাতে ফল পেয়েছে মশায়! ছেলের বিয়ের ব্যাপারে যে গুঁতো খেয়েছে!’ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলেন,‘ কিচ্ছু না! শুধু নিজের শ্বাস আর প্রশ্বাসটাকে একেবারে এই হাতের মুঠোয় পুরে, বুঝলেন!’ নিজের হাত মুঠো করে দেখান যজ্ঞেশ্বর।

স্নান করতে করতে মনে মনে দৃঢ় সঙ্কল্প করলেন এবার এই সংসারের আপাজাল থেকে তিনি বেরোবেনই।

সেই সপ্তাহের শেষেই ব্রজকিশোর বাড়িতে ঘোষণা করলেন যে তিনি  সপ্তাহ দুয়েকের  জন্য দুবরাজপুরে আনন্দগন্ধ আশ্রমে যাচ্ছেন। আশ্রমের নিয়মানুযায়ী পরিবার পরিজনের সঙ্গে কোনরকম যোগাযোগ রাখা যাবে না। এমনকি ফোন পর্য্যন্ত নিষেধ। গোপনে শ্বাস ফেলেন চপলেশ্বরী, ‘একটা বৌ থাকলে এমন উড়নচণ্ডী হোত না!’

হপ্তাদুয়েক কেটে গেল। কারো জীবনের নাট মঞ্চে আহামরি কিছু পট পরিবর্তন হল না। চোদ্দ দিন পার করে ব্রজকিশোর ফিরেও এলেন। দরজার আংটায় শব্দ পেয়ে চপলেশ্বরী সজাগ হলেন। বাতে খাওয়া পা টেনে টেনে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বারান্দায় গিয়ে দেখেন ছেলে ট্যাক্সি থেকে কি যেন বেশ যত্ন করে নামাচ্ছে।

‘ও আবার কি নিয়ে এলি রে?’ জিজ্ঞেস করেন তিনি।

ট্যাক্সির ভাড়া মিটিয়ে লাজুক হেসে মাকে প্রণাম করেন ব্রজকিশোর। মৃদু গলায় বলেন, ‘বৌ।’

ক্ষণমুহূর্তে বাকি্যহারা হয়ে পরমুহূর্তেই তেড়েফুঁড়ে ওঠেন চপলেশ্বরী, ‘তুই ঠাট্টা দিচ্চিস মাকে?’

তাঁর কণ্ঠাকর্ষণে বাড়ির বাকি সবাই এসে জোটে। বোনেদের উদ্দেশে্য ব্রজবাবু বলেন, ‘যা একটা বড় কাঁচি নিয়ে আয়।’

চপলেশ্বরীর তর সয় না। ‘কই তোর ছাতার মাতা বৌ!’

‘রসো রসো, অতো ব্যস্ত কি!’ মাকে শান্ত করেন ব্রজবাবু।

কাঁচি এলো। এবার ধীরে সুস্থে পরমযত্নে বয়ে আনা চতুষ্কোণ বাক্সের লাল ফিতে কাটেন ব্রজকিশোর। আহা, যেন নন্দের নন্দন কৃষ্ণ শ্রীরাধার কবরীবন্ধনের ফিতে কেটে দিল। কুচ্। ব্রজবাবুর মুখ মমতা ভালোবাসায় মাখামাখি।

সবকটা মাথা একসঙ্গেঁ ঝুঁকে পড়ল বাক্সগহ্বরে। কি বৌ, কেমন বৌ!

‘এই সরো সব, সরো সরো,’ বলে সবাইকে সরিয়ে পাঁজাকোলা করে দুধসাদা মেটাল গাত্রের কালো তকতকে কাঁচের দরজা শোভিত একখানি মাইক্রোওয়েভ পরমযত্নে নামান ব্রজকিশোর। গর্বে, আত্মবিশ্বাসে মাখো মাখো হয়ে পলকহীন তাকিয়ে থাকেন নবাগতার দিকে।

ব্রজকিশোরবাবু আজকাল ভারি আনন্দে আছেন। মাইক্রো বৌ ব্রজবাবুর  আবদেরে খাওয়া দাওয়ার সব দায়িত্ব হাসি মুখে তুলে নিয়েছে ঘাড়ে। মহানন্দে যখন যা মন চায় যেভাবে চায় নিমেষে সব নিরিমিষ ব্যাঞ্জন তৈরী। দেদার চলছে সেদ্ধ, পোড়া, ভাপের বিবিধ তৎসম তদ্ভব পদ ভক্ষণ। সর্বোপরি অতিথিবৎসল ব্রজবাবু বিনা দ্বিধায় নিঃসঙ্কোচে অতিথি অ্যাপ্যায়ণ করছেন। ‘কি খাবেন বলুন? চা তো হবেই, তার সাথে পাঁপর রোল? ভাপা ইডলি?’ ‘পেঁয়াজ পোড়া খেয়েছেন কখনো? অসাধারণ!’ ‘বেকড আলু চলবে না কি? ওপরে একটু কালোজিরে আর বীটনুন – খুব হেলদি, খেয়ে দেখুন।’

কারো বাঁকা চাহনি, পেঁচালো কথা সহ্য করার চাপ নেই। কারো ইচ্ছে অনিচ্ছের তোয়াক্কা রাখারও দরকার নেই। স্বয়ংসম্পূণর্র্ হওয়ার আনন্দই আলাদা! এসব শুদ্ধসত্ব খাওয়া দাওয়া, অতিথি আপ্যায়ণ ইত্যাদিতে মন আজকাল বেশ ফুরফুরে থাকে তাঁর। সংসার তার শতকোটি সঙ নিয়ে যেমন ছিলো তেমনিই আছে  কিন্তু উনি আর বিচলিত নন তাতে।

(ছবি : India Picture/Shutterstock)

Facebook Comments


এই রকম নতুন গল্পের খবর ই-মেলে পেতে সাইন-আপ করুন এখনই!

Leave a Comment: